ভিয়েতনামে ১০ জানুয়ারি ২০২১ঃ
জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুররহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর মাধ্যমে মুজিব বর্ষ তথা বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী-তে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। মান্যবররাষ্ট্রদূত-সহবাংলাদেশী ও ভিয়েতনামীবন্ধুগনঅসহায় ও পীড়িতদেরসাহায্যার্থে রক্তদান করেন।
এ উপলক্ষ্যে মান্যবর রাষ্ট্রদূত মিজ সামিনা নাজ চ্যান্সারী ভবনে আনুষ্ঠানিক ভাবে দিবসটির সূচনা করেন । দিনটি উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত বাণী অনুষ্ঠানে পাঠ করে শোনানো হয়। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যগণ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনার সূত্রপাত করেন । বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশের ইতিহাসে এ দিবসের তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নের্তৃত্বের কথা তিনি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি বলেন জাতির পিতা পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাঙালী জাতির মুক্তির জন্য দীর্ঘ ২৪ বছর সংগ্রাম করেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম সকল ক্ষেত্রেই তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসুরী তাঁর কন্যা-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গত বার বছরে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ এবং ইতোমধ্যে যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে, রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে আলোকপাত করেন । মান্যবব রাষ্ট্রদূত বলেন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল । ২০৩০ সালের মধ্যে ’টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং এই দিবসটি স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এবং বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে তাঁর অবিস্মরনীয় আত্মত্যাগ-কে স্মরণ করে বিশেষ এক মহতী ব্রত উপলক্ষ্যে ভিয়েতনাম কেন্দ্রীয় আর্মি হাসপাতালে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে এবং ভিয়েতনাম সরকারের সহায়তায় সেচ্ছায় রক্ত দানকর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। মান্যবর রাষ্ট্রদূত নিজে রক্তদানের মাধ্যমে এই কর্মসূচীর সূচনা করেন। দূতাবাসের কর্মচারী ও ভিয়েতনামের বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ সেচ্ছায় এই রক্তদান কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করেন। এর মধ্যে উল্লেখ্য Song Hong Group -এর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম চেম্বার-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব চং দো। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মান্যবর রাষ্ট্রদূত-কে ভিয়েতনামের মিলিটারী হাসপাতাল- এর উপ-পরিচালক বিশেষ ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়ে বলেন যে - রক্তদান একটি মহৎমানবিক কাজ - এ কাজে এগিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেমন আরোগভীর হবে, তেমনি স্বেচ্ছায় সংগৃহীত রক্ত অনেক পীড়িত ও অসহায় মানুষকে সহায়তা করবে। মান্যবর রাষ্ট্রদূত এ প্রেক্ষিতে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর বাংলাদেশ-কে স্বাধীনতা অর্জন ও দেশ গঠনে যে অবিস্মরণীয় নেতৃত্ব ও অবদান রেখেছেন, স্বেচ্ছায় রক্তদান করে বাংলাদেশ দূতাবাস এই মহান নেতার প্রতি তাঁদের বিনম্র শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছে। এই কর্মসূচী বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি নিদর্শন হিসেবেও উল্লেখ্য। রক্তদান কর্মসূচী সমাপান্তে দূতাবাস-এরপক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে মুজিব বর্ষের লগো সম্বলিত স্যুভেনিরমগ উপহার দেয়া হয় এবং আপ্যায়ন করা হয়।